ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড প্রাইভেট সেক্টর রিপোর্টিং ফেলোশিপ প্রোগ্রাম (বাংলাদেশ)
আবেদনের শেষ সময়: ১৪ জুন, ২০২৬
আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (Earth Journalism Network – EJN) জলবায়ু পরিবর্তন এবং বেসরকারি খাতের ওপর গভীর ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য বাংলাদেশের সাংবাদিকদের রিপোর্টিং ফেলোশিপ দিচ্ছে। এই ফেলোশিপের আওতায় ব্যবসায়িক খাতে জলবায়ুর প্রভাব, ইএসজি (ESG) চর্চা, জলবায়ু অর্থায়ন (climate finance), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও জলবায়ু, পরিচ্ছন্ন গতিশীলতা (clean mobility) এবং কর্পোরেট গ্রিনওয়াশিং-এর মতো বিষয়গুলোর ওপর প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করা হবে।
সর্বাধিক ১০ জনকে এই ফেলোশিপ দেওয়া হবে। নির্বাচিত ফেলোরা মেন্টরশিপের পাশাপাশি রিপোর্টিং সংক্রান্ত খরচের জন্য ১,৫০০ ইউরো (EUR 1,500) পর্যন্ত অনুদান পাবেন। প্রতিবেদনগুলো অবশ্যই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হতে হবে।
ফেলোশিপ সম্পর্কে
এই ফেলোশিপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর অনুসন্ধানী এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করা হবে:
- জলবায়ু পরিবর্তন এবং ব্যবসা
- ইএসজি (ESG) এবং টেকসই উন্নয়ন চর্চা
- জলবায়ু অর্থায়ন এবং কার্বন বাজার (carbon markets)
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিচ্ছন্ন গতিশীলতা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জলবায়ুর প্রভাব
- কর্পোরেট জবাবদিহিতা এবং গ্রিনওয়াশিং
এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু বিষয়ক সাংবাদিকতাকে শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের বেসরকারি খাত কীভাবে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, সে সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা
নির্বাচিত ফেলোরা পাবেন:
- মেন্টরশিপ বা দিকনির্দেশনা সহায়তা
- সম্পাদকীয় পরামর্শ
- রিপোর্টিং খরচের জন্য আর্থিক অনুদান
আর্থিক অনুদান যেসকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে:
- যাতায়াত বা ভ্রমণ
- আবাসন/থাকা-খাওয়া
- অনুবাদ
- নিরাপত্তা সংক্রান্ত খরচ
- অন্যান্য রিপোর্টিং খরচ
সর্বোচ্চ অনুদানের পরিমাণ:
- প্রকল্প প্রতি সর্বোচ্চ ১,৫০০ ইউরো (EUR 1,500)
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা:
- ফ্রিল্যান্সাররা মোট বাজেটের ৩০% পর্যন্ত সম্মানী (stipend) হিসেবে দাবি করতে পারবেন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আবেদনকারীকে অবশ্যই:
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক
- অনলাইন রিপোর্টার
- টিভি সাংবাদিক
- রেডিও সাংবাদিক
- ফ্রিল্যান্সার
- ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা (Early-career) সাংবাদিক
- অভিজ্ঞ রিপোর্টার
- কমিউনিটি মিডিয়াকর্মী
আন্তর্জাতিক মিডিয়া, জাতীয় মিডিয়া, স্থানীয় মিডিয়া এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সংস্থায় কর্মরত সাংবাদিকদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
গ্রুপ বা দলগত আবেদন
দলগত আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে এর জন্য শর্তাবলী হলো:
- একজন প্রধান আবেদনকারীকে (lead applicant) প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে।
- প্রধান আবেদনকারী EJN-এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
- ফেলোশিপের তহবিল প্রধান আবেদনকারী পরিচালনা করবেন।
ভাষার প্রয়োজনীয়তা
আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে:
- ইংরেজিতে
- বাংলায়
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোও হতে পারবে:
- ইংরেজিতে
- বাংলায়
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলা প্রতিবেদনের সাথে অবশ্যই ইংরেজি অনুবাদ যুক্ত করতে হবে।
সব প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট ট্যাগলাইন ব্যবহার করে EJN-এর সহায়তার কথা উল্লেখ (acknowledge) করতে হবে।
ফেলোশিপের সময়সীমা
- ফেলোশিপ প্রদান: ২০২৬ সালের জুন মাসে ফেলোশিপ ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- প্রতিবেদন প্রকাশ: চূড়ান্ত প্রতিবেদনগুলো অবশ্যই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হতে হবে।
এই ফেলোশিপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে:
- জলবায়ু অভিযোজন (Climate adaptation)
- টেকসই বিনিয়োগ
- নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর
- সবুজ উদ্ভাবন (Green innovation)
এই ফেলোশিপ সাংবাদিকদের যেসব বিষয়ে অনুসন্ধানে সাহায্য করবে:
- কর্পোরেট জলবায়ু পদক্ষেপ
- ব্যবসায়িক জবাবদিহিতা
- উদীয়মান সবুজ বা পরিবেশবান্ধব সম্ভাবনা
- গ্রিনওয়াশিং-এর ঝুঁকি
এছাড়াও, এই প্রোগ্রামটি জলবায়ু এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে সামাজিক আলোচনা জোরদার করতে উৎসাহিত করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
কোন সংস্থা এই ফেলোশিপ দিচ্ছে?
এই ফেলোশিপটি দিচ্ছে আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (Earth Journalism Network – EJN)।
কতটি ফেলোশিপ দেওয়া হবে?
এই প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ জনকে ফেলোশিপ দেওয়া হবে।
সর্বোচ্চ অনুদানের পরিমাণ কত?
নির্বাচিত ফেলোরা সর্বোচ্চ ১,৫০০ ইউরো (EUR 1,500) পর্যন্ত পেতে পারেন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের হতে হবে। প্রিন্ট, অনলাইন, টিভি, রেডিও এবং ফ্রিল্যান্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা আবেদনের যোগ্য।
দলগত আবেদন কি গ্রহণযোগ্য?
হ্যাঁ, দলগত আবেদন গ্রহণযোগ্য। তবে একজন নির্দিষ্ট প্রধান আবেদনকারী থাকতে হবে।
কোন কোন বিষয় বা টপিক এতে অন্তর্ভুক্ত?
টপিকগুলোর মধ্যে রয়েছে: জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্যবসা, ইএসজি (ESG) (Environmental, Social, and Governance (পরিবেশগত, সামাজিক এবং সুশাসন), জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এআই ও জলবায়ু এবং গ্রিনওয়াশিং।
প্রতিবেদনগুলো কখন প্রকাশ করতে হবে?
সব প্রতিবেদন অবশ্যই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষের আগে প্রকাশিত হতে হবে।
উপসংহার
আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের (EJN) এই ফেলোশিপটি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন এবং বেসরকারি খাতের ওপর প্রভাবশালী প্রতিবেদন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অর্থায়ন, মেন্টরশিপ এবং সম্পাদকীয় সহায়তার মাধ্যমে এই প্রোগ্রামটি একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে জলবায়ু ঝুঁকি, টেকসই উন্নয়ন চর্চা এবং ব্যবসায়িক জবাবদিহিতা নিয়ে জোরালো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করে।
